প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ভারতে নির্মাণাধীন সেতু ধস, নিহত অন্তত ৬
ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একটি নির্মাণাধীন সেতুর অংশ ধসে অন্তত ছয়জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং সেতুর পিলারের ওপর কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) গভীর রাতে উত্তর প্রদেশের হামিরপুর জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড় ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে নির্মাণাধীন সেতুটির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সেতুটি বেতওয়া নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং এটি কুরারা এলাকার মার্কান্দার পার্সনি ও নেথি গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সেতুর একটি বিশাল কংক্রিট স্ল্যাব হঠাৎ নিচে ধসে পড়ে। সেই সময় নিচে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন এবং কেউ কেউ বিশ্রামে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভারী কংক্রিট ও লোহার কাঠামো তাদের ওপর ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধসে পড়া অংশ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার সময় তিনজন শ্রমিক সেতুর একটি পিলারের ওপর আটকা পড়েন। তাদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্ধার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রবল ঝড়ের মধ্যে কেন শ্রমিকদের সেখানে কাজ করতে দেওয়া হয়েছিল, কিংবা নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভারতে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ, নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা এবং দুর্বল তদারকির কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। হামিরপুরের এই ঘটনা আবারও নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে নিয়ে এলো।
Comments (0)