শান্তিচুক্তির ৩০ দিন পর হরমুজ খুলবে ইরান

May 27, 2026 - 12:00
0
শান্তিচুক্তির ৩০ দিন পর হরমুজ খুলবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পর গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে ইরান। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে সব ধরনের অবরোধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে তেহরান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে পাতা জলমাইন অপসারণ শুরু করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজগুলো আবারও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শান্তিচুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়িয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। মাত্র ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি কার্যত বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। পরিস্থিতিকে আরও কঠোর করতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বিভিন্ন স্থানে জলমাইন স্থাপন করে বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ধারণা, প্রণালির বিভিন্ন অংশে অন্তত এক ডজনের বেশি মাইন পাতা হয়েছিল।

হরমুজে অবরোধ জারির পর বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে তেল ও তরল গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। অনেক দেশ বিকল্প সরবরাহ পথ খুঁজতে বাধ্য হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ থেকে অবরোধ সরানো হয়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেন। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও জটিল আকার নেয়।

মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। কারণ কোন কোন স্থানে মাইন পাতা হয়েছে, সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটাতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা বজায় ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয় এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Comments (0)

User