চুয়াডাঙ্গা ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
চুয়াডাঙ্গায় উন্নত ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষের উপর প্রশিক্ষণ চুয়াডাঙ্গায় আন্ত‌জেলা অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় ৬ সদস্য  আটক; চেতনা নাশক ঔষধ উদ্ধার দামুড়হুদার ডুগডুগি বাজারে বিট পুলিশিং সভায় পুলিশ সুপার ফয়জুর রহমান-অপরাধ দমনে পুলিশ কে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন স্ত্রী‌কে সম্ভ্রমহা‌নি করার অপরা‌ধে ক‌বিরাজ‌কে জবাই ক‌রে হত্যা দামুড়হুদায় নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি টগর-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় জনগণের কথা চিন্তা করে দামুড়হুদায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণে মাঠ দিবসে সাবেক মহাপরিচালক ড. হামিদুর রহমান -চুয়াডাঙ্গার মাটি কৃষির ঘাটি দামুড়হুদায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা দামুড়হুদার আটকবর মোড়ে পূর্ববিরোধের জেরে ২জনকে কুপিয়ে, মারপিটে জখম করার অভিযোগ  দামুড়হুদার দুটি রাস্তার উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন কালে এমপি টগর -আওয়ামীলীগ সরকার উন্নয়নমূখী সরকার দামুড়হুদায় বোরো ধান সংগ্রহের লটারী অনুষ্ঠিত 

গাংনীতে উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

লেখা পড়ার পথ সুগম করতে সরকার উপবৃত্তি ভাতা চালু করলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনীর অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের কাছে উপবৃত্তির তালিকায় নাম থাকা সত্বেও টাকা পাচ্ছেন না তারা। আবার অনেকের অভিযোগ, শিক্ষকদের বারবার বলার পরে কয়েকজন উপবৃত্তির টাকা পেলেও তা সঠিক সময়ে পাচ্ছেনা।

 

আবার অনেকেই উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্বেও সুরাহা না হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তাই পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা টাকা না পাওয়ায় শিক্ষকরাও নানা সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

জানাগেছে, ২০০১ সালে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসুচীর পরিবর্তন করে প্রথমে ছাত্র প্রতি মাসিক ২০ টাকা হারে এবং ২০০২ সালের জুলাই হতে শতকরা ৪০ ভাগ শিক্ষার্থীকে মাথাপিচছু ১০০ টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়। বিভিন্ন চড়াই উৎরায় পেরিয়ে ২০১৯ সালের দিকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিং ‘নগদ’ মাধ্যমে প্রদান করা হয়। যে মাধ্যমে টাকা আদান প্রদানে গ্রাহক কে কোন ম্যাসেজ দেয়া হয়না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীতে ৭৫ টাকা এবং অন্যান্য শ্রেনীতে মাসিক ১৫০ টাকা করে সরকার বছরে দুইবার মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান করে থাকেন।

 

প্রাথমিক ভাবে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হলে টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তা পরিবর্তন হয়ে ‘বিকাশ’ একাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হতো। বিকাশের মাধ্যমে উপবৃত্তি পদানের সময় একটি ম্যাসেজের মাধ্যেমে উপকারভোগীতে নিশ্চয়তা বার্তার মাধ্যমে তা জানানো হতো। পরে বিকাশ পরিবর্তন করে বর্তমানে ‘নগদ’ একাউন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

‘নগদ’ একাউন্টের মাধ্যেমে টাকা প্রদানের পর উপকারভোগীদের মোবাইলে কোন নিশ্চয়তা বার্তা(ম্যাসেজ) না দেয়ায় অনেকেই ধুয়াশায় পড়ে থাকেন। টাকা না পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে জবাব দিহিতার মধ্যে পড়েন বিদ্যালয় শিক্ষকরা।

 

গাংনী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রযেছে ১৬২টি। এসকল বিদ্যালয় গুলির মধ্যে সরকারি নিয়মনুযায়ী শিক্ষা খাতে গুরুরত্ব দিয়ে শতভাগ সকল শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির সুবিধার আওতায় নিয়েছে বর্তমান সরকার। অথচ সরকারের এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে যারা নিয়োজিত রয়েছেন সেই সকল কর্তাব্যাক্তিদের অবহেলায় অনেক শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

 

গাংনী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাদ রাজা বলেন, তার বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১৫৮জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে ২৯জন শিক্ষার্থী এবছর উপবৃত্তির টাকা পায়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রাতমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হলেও কোন সুরাহা মেলেনি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম,আলজারির,রাধিকা জানায়, তাদের সহকর্মীরা অনেকেই উপবৃত্তির টাকা পেয়েছে। আমরা আজও পাইনি। স্যারদের মাঝে মধ্যে বলি কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

 

বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে ১৪০জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এদের মধ্যে ১০জন শিক্ষার্থী এবছর উপবৃত্তির টাকা পায়নি। উপবৃত্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আমাদের কাছে আসলেও কোন উত্তর দিতে পারিনা এমনকি আমরা কোথায় অভিযোগ করবো তাও জানিনা। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছিয়া, তাছিম,উম্মে সালমা,হাবিবা,লিমা এমন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষকরা বলে তোমাদের নাম উপবৃত্তির তালিকায় আছে,কিন্তু আজও টাকা আসেনি। আমাদের কয়েকবার মোবাইল নাম্বার সঠিক আছে কিনা তা দেখা হয়েছে। সব ঠিক আছে কিন্তুু টাকা আসেনা।

 

বড় বামুন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান গোলাম হাসান জানান, বিদ্যালয়ের ৭৮জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধ্যে ৭জন শিক্ষার্থী এবছর উপবৃত্তির টাকা পায়নি। পিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৯০জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায়নি বলে জানান প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার ফয়জুন নেছা। সাহারবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দানেসুর রহমান জানান,১৫৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০জন শিক্ষার্থী এবং ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, ১৫জন শিক্ষার্থী এবছর বঞ্চিত হয়েছেন সরকারের এই উপবৃত্তি সহায়তা থেকে।

 

শিক্ষকদের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বর ও কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও তারা উপৃত্তির টাকা পাচ্ছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে মনমালিন্য হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরাও তাদের কোন জবাব দিতে পারছিনা। শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা হচ্ছেনা। তবে সব চেয়ে বড় সমস্যা বলে স্কুল শিক্ষকরা মনে করছেন ‘নগদ’ একান্টে টাকা প্রদান করা হলে মোবাইলে কোন ম্যাসেজ দেয়া হয়না। এতে টাকা প্রদানের বিষয়ে জানতে পারছেনা উপকারভোগীরা।

 

এভাবে অন্তত কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে উপবৃত্তির এ সুবিধা থেকে। তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেক বঞ্চিত রয়েছে তার কোন সংখ্যা নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।

 

 

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দীন জানান, উপবৃত্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে মৌখিক অবহিত করেছেন। আমি তাদের তালিকা করে পাঠাতে বলেছি। তালিকা পেলে বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় উন্নত ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষের উপর প্রশিক্ষণ

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

গাংনীতে উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ০৪:৫৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩

লেখা পড়ার পথ সুগম করতে সরকার উপবৃত্তি ভাতা চালু করলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনীর অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের কাছে উপবৃত্তির তালিকায় নাম থাকা সত্বেও টাকা পাচ্ছেন না তারা। আবার অনেকের অভিযোগ, শিক্ষকদের বারবার বলার পরে কয়েকজন উপবৃত্তির টাকা পেলেও তা সঠিক সময়ে পাচ্ছেনা।

 

আবার অনেকেই উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্বেও সুরাহা না হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তাই পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা টাকা না পাওয়ায় শিক্ষকরাও নানা সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

জানাগেছে, ২০০১ সালে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসুচীর পরিবর্তন করে প্রথমে ছাত্র প্রতি মাসিক ২০ টাকা হারে এবং ২০০২ সালের জুলাই হতে শতকরা ৪০ ভাগ শিক্ষার্থীকে মাথাপিচছু ১০০ টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়। বিভিন্ন চড়াই উৎরায় পেরিয়ে ২০১৯ সালের দিকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিং ‘নগদ’ মাধ্যমে প্রদান করা হয়। যে মাধ্যমে টাকা আদান প্রদানে গ্রাহক কে কোন ম্যাসেজ দেয়া হয়না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীতে ৭৫ টাকা এবং অন্যান্য শ্রেনীতে মাসিক ১৫০ টাকা করে সরকার বছরে দুইবার মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান করে থাকেন।

 

প্রাথমিক ভাবে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হলে টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তা পরিবর্তন হয়ে ‘বিকাশ’ একাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হতো। বিকাশের মাধ্যমে উপবৃত্তি পদানের সময় একটি ম্যাসেজের মাধ্যেমে উপকারভোগীতে নিশ্চয়তা বার্তার মাধ্যমে তা জানানো হতো। পরে বিকাশ পরিবর্তন করে বর্তমানে ‘নগদ’ একাউন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে।

 

‘নগদ’ একাউন্টের মাধ্যেমে টাকা প্রদানের পর উপকারভোগীদের মোবাইলে কোন নিশ্চয়তা বার্তা(ম্যাসেজ) না দেয়ায় অনেকেই ধুয়াশায় পড়ে থাকেন। টাকা না পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে জবাব দিহিতার মধ্যে পড়েন বিদ্যালয় শিক্ষকরা।

 

গাংনী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রযেছে ১৬২টি। এসকল বিদ্যালয় গুলির মধ্যে সরকারি নিয়মনুযায়ী শিক্ষা খাতে গুরুরত্ব দিয়ে শতভাগ সকল শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির সুবিধার আওতায় নিয়েছে বর্তমান সরকার। অথচ সরকারের এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে যারা নিয়োজিত রয়েছেন সেই সকল কর্তাব্যাক্তিদের অবহেলায় অনেক শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

 

গাংনী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাদ রাজা বলেন, তার বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১৫৮জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে ২৯জন শিক্ষার্থী এবছর উপবৃত্তির টাকা পায়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রাতমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হলেও কোন সুরাহা মেলেনি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম,আলজারির,রাধিকা জানায়, তাদের সহকর্মীরা অনেকেই উপবৃত্তির টাকা পেয়েছে। আমরা আজও পাইনি। স্যারদের মাঝে মধ্যে বলি কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

 

বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে ১৪০জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এদের মধ্যে ১০জন শিক্ষার্থী এবছর উপবৃত্তির টাকা পায়নি। উপবৃত্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আমাদের কাছে আসলেও কোন উত্তর দিতে পারিনা এমনকি আমরা কোথায় অভিযোগ করবো তাও জানিনা। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছিয়া, তাছিম,উম্মে সালমা,হাবিবা,লিমা এমন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষকরা বলে তোমাদের নাম উপবৃত্তির তালিকায় আছে,কিন্তু আজও টাকা আসেনি। আমাদের কয়েকবার মোবাইল নাম্বার সঠিক আছে কিনা তা দেখা হয়েছে। সব ঠিক আছে কিন্তুু টাকা আসেনা।

 

বড় বামুন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান গোলাম হাসান জানান, বিদ্যালয়ের ৭৮জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধ্যে ৭জন শিক্ষার্থী এবছর উপবৃত্তির টাকা পায়নি। পিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৯০জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায়নি বলে জানান প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার ফয়জুন নেছা। সাহারবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দানেসুর রহমান জানান,১৫৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০জন শিক্ষার্থী এবং ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, ১৫জন শিক্ষার্থী এবছর বঞ্চিত হয়েছেন সরকারের এই উপবৃত্তি সহায়তা থেকে।

 

শিক্ষকদের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বর ও কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও তারা উপৃত্তির টাকা পাচ্ছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে মনমালিন্য হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরাও তাদের কোন জবাব দিতে পারছিনা। শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা হচ্ছেনা। তবে সব চেয়ে বড় সমস্যা বলে স্কুল শিক্ষকরা মনে করছেন ‘নগদ’ একান্টে টাকা প্রদান করা হলে মোবাইলে কোন ম্যাসেজ দেয়া হয়না। এতে টাকা প্রদানের বিষয়ে জানতে পারছেনা উপকারভোগীরা।

 

এভাবে অন্তত কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে উপবৃত্তির এ সুবিধা থেকে। তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেক বঞ্চিত রয়েছে তার কোন সংখ্যা নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।

 

 

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দীন জানান, উপবৃত্তি বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে মৌখিক অবহিত করেছেন। আমি তাদের তালিকা করে পাঠাতে বলেছি। তালিকা পেলে বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।